ইতিহাস মানবজীবনের দর্শন। যে জাতি ইতিহাসকে অস্বীকার করে তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়ে। ইতিহাসের মাধ্যমে সমাজ ও সভ্যতার কৃর্তিমান অতীত, ঐশ^র্যমন্ডিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের দলিল, নানান জাতি গোষ্টির জন্ম বিকাশ বৃন্তান্ত সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে মিশরীয়, সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, হিব্রæ ও গ্রীক সভ্যতার যে বিকাশ ঘটেছিল, সেই অতীত ও বর্তমান সভ্যতার সাথে মুসলিম সভ্যতার সেতু বন্ধন তৈরী হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে থুকিডাইডিস ও হেরোডেটাসের হাতে ইতিহাস লেখার চর্চা শুরু হলেও সেই ইতিহাস অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে মুসলমানদের হাতে পদ্ধতিগত ও বিজ্ঞান সম্মত ভাবে ইতিহাস লিখন ও পঠনের মাত্রা পেয়েছে।
শুরুরদিকে ইসলামের ইতিহাস বলতে শুধুমাত্র রাজা বাদশাহদের জয় পরাজয় আর যুদ্ধের কাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে আল্লামা জারীর আত তাবারী ও ইবনে খালদুন প্রমুখ পন্ডিতদের ছোঁয়ায় নুতুন মাত্রা যোগ হয়ে গতিশীল করে তুলেছে। তাই সমাজ,অর্থনীতি,ইসলামী ব্যাংকিং, প্রাচীন সভ্যতা পরিবেশ ও ভৌগলিক পরিচয়, প্রত্নতত্ব, স্থাপত্য ও চিত্রকলার মত আকর্ষণীয় বিষয়গুলি দিয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়টিকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তাই বিশে^র নানা প্রান্তের দেশগুলির কাছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১৯৬২ সালে মেহেরপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আর অন্য বিষয়য়ের সাথে মানবিক বিভাগে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় খোলা হয়। শুরুরদিকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে বিষয়টি পাঠদান করা হত পরবর্তীতে এই কলেজে ¯œাত্বক কোর্স পাঠদানের অনুমতি পাওয়া গেলে বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত হয়।
২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ বিভাগে প্রথম সম্মান কোর্স চালু করা হয়। তখন মাত্র ৫০টি আসন নিয়ে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সম্মান শ্রেণীতে ১০০টি আসন রয়েছে। বিভাগে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০ জন। এখনো স্নাতকোত্তর কোর্স খোলা হয়নি। স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।